
আজকে আমরা পড়বো ম্যাক্রোফেজ সম্পর্কে…
তাহলে শুরু করা যাক!
আসলে ম্যাক্রোফেজ নাম থেকেই এটি কি সে সম্পর্কে আইডিয়া করা যায়! ম্যাক্রো(Macro) মানে বড় আর ফেজ(phage)মানে ভক্ষণ তাহলে ম্যাক্রোফেজ মানে হলো বড় কিছু ভক্ষণ আসলে ইংরেজিতে ম্যাক্রোফেজের শাব্দিক অর্থ হলো “Large Eater”
মানে যে কোষগুলো বড় বড় জীবাণু, নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ,ক্যান্সারকোষ খেয়ে থাকে..
আর যে প্রক্রিয়ায় এটি এই সকল জিনিস খেয়ে থাকে তাকে বলা হয় ফ্যাগোসাইটোসিস…ফ্যাগোসাইটোসিস সম্পর্কে আমি পরে বিস্তারিত আলোচনা করবো আপাতত মনে রাখো ফ্যাগোসাইটোসিস হলো ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক জীবাণু ভক্ষণ বা খেয়ে ফেলার একটা প্রক্রিয়া…
তাহলে এখন প্রশ্ন ম্যাক্রোফেজ জিনিসটা আসলে কি?আসলে ম্যাক্রোফেজ একধরনের শ্বেতরক্তকণিকা আরও স্পেসিফিক ভাবে বললে এটা হলো মনোসাইট…
তাহলে এখন প্রশ্ন এটা যদি মনোসাইট হয় তাহলে এটি ম্যাক্রোফেজ হয় কিভাবে আর ম্যাক্রোফেজ হওয়ারই বা কি দরকার!!
আসলে রক্তের ভিতর মনোসাইট থাকে সেটা আমরা সবাই জানি আর রক্ত থাকে রক্তনালির ভিতর.. আর এই রক্তনালিগুলো বিভিন্ন টিস্যুর ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে..
যখন এই মনোসাইটগুলো রক্তনালিকা ভেদ করে টিস্যুতে চলে আসে তখন এটি ম্যাক্রোফেজ নাম ধারণ করে..তাহলে আমরা জানলাম মনোসাইট থাকে রক্তে কিন্তু ম্যাক্রোফেজ থাকে বিভিন্ন টিস্যু্তে।
তবে এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে মনোসাইট আর ম্যাক্রোফেজ কিন্তু কখনই এক না!
এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ম্যাক্রোফেজ ফ্যাগোসাইটোসিস ক্ষমতাসম্পন্ন কিন্তু মনোসাইট না! তাহলে মনোসাইটের টিস্যু্তে গিয়ে ম্যাক্রোফেজের রূপ নেওয়ার প্রধান কারণ তো বুঝতে পারলা!
আবার বলি মনোসাইট রক্ত থেকে বিভিন্ন টিস্যুতে গিয়ে ম্যাক্রোফেজে রূপান্তরিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো যেনো এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করতে পারে!
শরীরের বিভিন্ন টিস্যু্তে ম্যাক্রোফেজের বিভিন্ন নাম বিদ্যমানঃ
১.মস্তিষ্কের ম্যাক্রোফেজকে বলে মাইক্রোগ্লিয়া
২.ফুসফুসের ম্যাক্রোফেজকে বলে অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ
৩.অস্থির ম্যাক্রোফেজকে বলে অস্টিওক্লাস্ট
৪.যকৃতের ম্যাক্রোফেজকে বলে কাপফারকোষ/কুফারকোষ
৫.ত্বকের ম্যাক্রোফেজকে বলে ল্যাঙ্গারহ্যান্সকোষ
এখন উদাহরণের মাধ্যমে বুঝে নিই,ধরো শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাসের সাথে একটা জীবাণু আমাদের ফুসফুসে চলে আসলো তাহলে বলোতো ভাইয়ারা এখানে কি হতে পারে?
অবশ্যই ফুসুফুসের ম্যাক্রোফেজ মানে অ্যালভিওলার ম্যাক্রোফেজ দৌড়ায়ে আসবে সেই জীবাণু খেতে তাই,তো!
হ্যাঁ সেটাই….আসলে একটা ম্যাক্রোফেজ মোটামুটি ১০০টার মতো ব্যাকটেরিয়া খেতে পারে! খাওয়ার পরে আবার সেগুলা মানুষের মতো মল হিসেবেও বের করে দেয় কিন্তু..পরে সেই ম্যাক্রোফেজ আবার কোন জীবাণু আসলে সেটাকে ধরে খেয়ে ফেলে তাহলে ম্যাক্রোফেজ কিন্তু রিইউজেবল!
খাওয়ার কাজ ছাড়াও ম্যাক্রোফেজ জীবাণুকে চিনে রাখতে আমাদের প্রতিরক্ষাতন্ত্রকে বিশেষভাবে সহায়তা করে!!এজন্য ম্যাক্রোফেজকে Antigen Presenting cell ও বলা হয়!
মানে কি? মানে হলো ম্যাক্রোফেজ এই যে জীবাণুগুলোকে নিয়ে T লিম্ফোসাইটের কাছে গিয়ে বলে T লিম্ফোসাইট ভাইয়া এই দুষ্টটাকে (মানে জীবাণুকে) চিনে রাখো তো আবার প্রবেশ করলে আমাকেও জানাবা সাথে তোমার সৈন্যসামন্তকেও জানাবা যাতে খুব দ্রুত এই শয়তানটার(মানে জীবাণু)বিনাশ করতে পারি!
তাহলে দেখো ম্যাক্রোফেজ কিন্তু T লিম্ফোসাইটের কাছে জীবাণুটাকে present করলো বা উপস্থাপন করলো এজন্য একে Antigen presenting cell বা APC বলা হয়(দেহে বাইরে হতে যা প্রবেশ করবে সবই হলো antigen এখানে জীবাণু দেহের বাইরে হতে ভিতরে প্রবেশ করছে তাই এটিও একটি antigen?)
এটি নিয়ে বিস্তারিত পরে আলোচনা করা যাবে!
আশা করি তোমরা ম্যাক্রোফেজ সম্পর্কে বুঝতে পারছো!
ধন্যবাদ,
আব্দুর রউফ উল্লাস
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
2 responses on "ম্যাক্রোফেজ এর চৌদ্দগুষ্টি"
Leave a Message
You must be logged in to post a comment.
It was amazing and very easy to understand thanks vaiyaa ❤️
haha seiii cilo